কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আজানের সময় আজানের জবাব আগে না কি স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া আগে? সহবাসের সময় আজানের জবাব দেয়া যাবে কি?

প্রশ্ন: আজানের সময় আজানের জবাব দিচ্ছি। এমন সময় স্বামী ডাকল অথবা কল দিল। আমার জন্য উত্তম কোনটা হবে-আজানের জবাব দেওয়া নাকি তার কল ধরা বা ডাকে সাড়া দেয়া? আর সহবাসের সময় আজানের জবাব দেয়া যাবে কি?

উত্তর:

যদি মনে হয়, স্বামীর কল ধরতে বিলম্ব হলে তিনি রাগ করবেন বা মন খারাপ করবেন তাহলে আজানের জবাব বাদ দিয়ে তার সাথে কথা বলা জরুরি।
আর আশেপাশে থাকা অবস্থায় ডাকলে তার ডাকে সাড়া দেয়ার মধ্যেও আজানের জবাব দেয়ার চেষ্টা করা ভালো যদি সম্ভব হয়। কারণ কারো সাথে টুকটাক কথা বলার ফাঁকে বা কাজ করা অবস্থায় মুখে আজানের জবাব দেয়া সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে, আজানের জবাব দেয়া ফরয বা ওয়াজিব নয় বরং মোস্তাহাব আর স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া ফরয। সুতরাং স্বামীর হক আগে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

অবশ্য স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় আজানের জবাব দেয়া ঠিক নয়:

ইমাম নওবী রহ. সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলেন:

ويكره للقاعد على قضاء الحاجة أن يذكر الله تعالى بشيء من الاذكار فلا يسبح ولا يهلل ولا يرد السلام ولا يشمت العاطس ولا يحمد الله تعالى اذا عطس ولا يقول مثل ما يقول المؤذن. قالوا وكذلك لا يأتي بشيء من هذه الأذكار في حال الجماع، وإذا عطس في هذه الاحوال يحمد الله تعالى في نفسه ولا يحرك به لسانه. وهذا الذي ذكرناه من كراهة الذكر في حال البول والجماع هو كراهة تنزيه لا تحريم فلا إثم على فاعله. انتهى.
والله أعلم.
“হাজত পূরণের জন্য (পেশাব-পায়খানার জন্য) বসা অবস্থায় কোনো ধরণের আল্লাহর জিকির করা মাকরূহ (অ পছন্দনীয় কাজ)। সুতরাং এ অবস্থায় তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করবে না, সালামের জবাব দিবে না, হাঁচির জবাব দিবে না, হাঁচি দিলে আল ‘হামদু লিল্লাহ’ পড়বে না এবং মুয়াজ্জিনের অনুরূপ শব্দ উচ্চারণ করে আজানের জবাব দিবে না।

ফকিহগণ আরও বলেছেন: স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময়ও এ সব জিকির-আজকার উচ্চারণ করবে না। তবে এ অবস্থায় হাঁচি দিলে মনে মনে আল হামদুলিল্লাহ পাঠ করবে কিন্তু জিহ্বা নেড়ে তা উচ্চারণ করবে না।
তবে এই যে পেশাব-পায়খানা এবং সহবাসের সময় জিকির পাঠ করার
মাকরূহ বা অ পছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলাম এটা মাকরূহে তানযিহী; তাহরিমী নয়। সুতরাং কেউ যদি এমনটি করেও তাতে গুনাহ হবে না। আল্লাহু আলাম।”

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
——————–
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post