কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোকে পেশা হিসেবে বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করা অছন্দনীয় তবে নাজায়েয নয়

প্রশ্ন: হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ কি হালাল না কি হারাম?

উত্তর:
নিন্মে হিজামার পরিচয় এবং ইসলামে দৃষ্টিতে এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাকে কোন দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে সে ব্যাপারে আলোচনা করা হল:

💠 হিজামা কি?

হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। হিজামা শব্দের অর্থ: শোষণ করা বা চোশা। অতীত কালে শরীরের ব্যাথাযুক্ত স্থানে একটু কর্তন করে সেখান গরুর শিং বা পাইপ জাতীয় বস্তু লাগিয়ে মুখে দিয়ে টেনে শরীরের দূষিত রক্ত বের করা হত। তবে বর্তমানে এটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেহের ত্বকের ব্যথাযুক্ত কোন অংশে সামান্য কর্তন করে সেখানে কাপ আকৃতির বায়ুশূণ্যকারী ছোট পাত্র নিশ্ছিদ্রভাবে এটে দিয়ে তা বায়ুশুন্য করে কর্তনকৃত স্থানে লাগিয়ে ব্যাথাযুক্ত অঙ্গ যেমন কোমর, পিঠ, মাথা, কাধ ইত্যাদি স্থান থেকে দূষিত রক্ত বের করা হয়। এটিকে বর্তমানে ‘কাপিং থেরাপী’ বলা হচ্ছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এই হিজামা পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেছেন এবং এ সম্পর্কে বলেছেন:
إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ ‏”‏
“তোমাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা হল হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো।” [নাসাঈ, তিরমিযী হা/১২৭৮, মুখতাসার শামাইল-আলবানী ৩০৯, সনদ সহীহ- আল মাদানী প্রকাশনী]

💠 হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে চিকিৎসা করা শরীয়ত সম্মত এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাও নাজায়েয নয়। কিন্তু তা উত্তম-অনুত্তম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়।

নিম্নে বিজ্ঞ আলেমদের মতামত, তাদের দলীল ও সেগুলোর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হল:

 ইমাম আবু হানিফা, ইমাম লাইস ইবনে সা’দ, ইমাম মালিক প্রমুখ বলেন, শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা জায়েয (মাকরূহ বা অপছন্দীয় নয়)।
 পক্ষান্তরে ইমাম শাফেঈ, ইমাম ইবনে হাম্বল প্রমুখ ইমামগণ বলেন, স্বাধীন ব্যক্তিদের জন্য তা মাকরূহ বা অপছন্দীয়। তবে দাসদের জন্য মাকরূহ নয়।
এ দ্বিমত সংঘটিিত হওয়ার কারণ হল, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো বাহ্যত সাংর্ষিক মনে হয়। নিম্নে উভয় পক্ষের মতামত ও দলীল সমূহ তুলে ধরা হল:

 নিম্নোক্ত হাদিস সমূহ দ্বারা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন মাকরূহ বা অপছন্দীয় সাব্যস্ত হয়। যেমন,
🔰 রাফি’ ইবনে খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,
شَرُّ الْكَسْبِ مَهْرُ الْبَغِيِّ وَثَمَنُ الْكَلْبِ وَكَسْبُ الْحَجَّامِ
“বেশ্যা বৃত্তির উপার্জন এবং কুকুরের মূল্য আর রক্ত মোক্ষণ কারীর (শিঙ্গা লাগানোর) আয় নিকৃষ্ট উপার্জন।” (সহীহ মুসলিম, ৩৯০৩ ihadis. com থেকে)

🔰 রাফি’ বিন খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِىِّ خَبِيثٌ وَكَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ»
“কুকুর বিক্রয়লব্ধ মূল্য খবিস বা ঘৃণিত বস্তু, জিনা-ব্যভিচারের বিনিময়ও খবিস বা ঘৃণিত, শিঙ্গা লাগানোর (রক্তমোক্ষণের) ব্যবসা খবিস বা ঘৃণিত।” [সহীহ মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ, অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) (كتاب البيوع)প্রথম অনুচ্ছেদ – উপার্জন করা এবং হালাল রুযী অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা হা/2763-হাদিস একাডেমী]

🔰 মুহায়্যাসা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি তা নিষেধ করে দেন। কিন্তু তিনি বার বার তাঁর কাছে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন এবং সে বিষয়ে অনুমতি প্রার্থনা করতে লাগলেন। শেষে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
اعْلِفْهُ نَاضِحَكَ وَأَطْعِمْهُ رَقِيقَكَ
“তা দিয়ে তোমার পানি সেচার উটকে ঘাস খেতে দাও আর তা তোমার গোলামকে খেতে দাও।” [সুনান তিরমিযী, অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয় (كتاب البيوع عن رسول الله ﷺ) হা/1280 ই.ফা প্রকাশনী। ইবনে মাজাহ ২১৬৬, তিরমিযী, হা/ ১২৭৭ -আল মাদানি প্রকাশনী। হাদিসটি সহীহ]

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, মুহায়্যাসা রা. বর্ণিত হাদিসটি হাসান-সাহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেছেন, কোন শিঙ্গা ওয়ালা যদি আমার কাছে (এ পেশা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করে তবে আমি তাকে এ থেকে নিষেধ করব এবং আমলের জন্য এ হাদিসটি অবলম্বন করব।

 নিম্নোক্ত হাদিস সমূহ থেকে শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার অনুমতি প্রমাণিত হয়। যেমন

🔰 হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আনাস রা. কে শিঙ্গা ওয়ালার উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন,
احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। তাঁকে আবূ তায়বা শিঙ্গা লাগিয়েছিল। তিনি তাকে দুই সা’ পরিমাণ খাদ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার মালিকদের কাছে তার পক্ষ থেকে দৈনিক দেয় মজুরী সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। ফলে তারা তার দেয় মজুরীর হার কামিয়ে দিয়েছিল।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ ‏”‏
“তোমাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা হল শিঙ্গা লাগানো।” [মুখতাসার শামাইল ৩০৯, নাসাঈ, তিরমিযী হা/১২৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আলী, ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আনাস রা. হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান-সাহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম শিঙ্গা ওয়ালার পারিশ্রমিকের অনুমতি দিয়েছেন। এ হল ও ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত। [সুনান তিরমিযী – ১২৮১ ]

🔰 ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
احْتَجَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَعْطَى الَّذِي حَجَمَهُ، وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهِ‏.‏
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাঁকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো তবে তিনি তা দিতেন না।”[ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় হা/ ১৯৭৩ ]
সহীহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে: وَلَوْ عَلِمَ كَرَاهِيَةً لَمْ يُعْطِهِ‏
“যদি তিনি তা অপছন্দ করতেন তবে তাকে (পারিশ্রমিক) দিতেন না।”[ সহীহ বুখারী – ২১৩৫ ]

🔰আনাস (রাঃ) বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَحْتَجِمُ، وَلَمْ يَكُنْ يَظْلِمُ أَحَدًا أَجْرَهُ
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগাতেন এবং কোন লোকের পারিশ্রমিক কম দিতেন না।” [সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ইজারা হা/ ২১৩৬ ]

🔰 ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
حَجَمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَبْدٌ لِبَنِي بَيَاضَةَ فَأَعْطَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَجْرَهُ وَكَلَّمَ سَيِّدَهُ فَخَفَّفَ عَنْهُ مِنْ ضَرِيبَتِهِ وَلَوْ كَانَ سُحْتًا لَمْ يُعْطِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم
“বানূ বায়াদা এর একটি গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিঙ্গা লাগালে তিনি তাকে মজুরী প্রদান করেন এবং তার মালিকের সাথে আলোচনা করেন। এতে সে তার উপর থেকে ধার্যকৃত দৈনিক মজুরি কর হ্রাস করে দেয়। যদি তা হারাম হতো তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক দিতেন না।”
[সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: বর্গা চাষ হা/ ৩৮৯৭ ]

 শিঙ্গা লাগানো এবং তার পারিশ্রমিক দেয়ার হাদিসগুলো দ্বারা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসগুলো কি মনসুখ বা রহিত হয়ে গেছে?
উত্তর:
মুহাদ্দিসগণ বলেন, শিঙ্গা লাগিয়ে তার পারিশ্রমিক দেয়ার হাদিসগুলোর কারণে কোন কোন আলেম পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে মনসুখ বা রহিত হওয়ার দাবি করেন। কিন্তু এ দাবী ঠিক নয়। কারণ রহিত হওয়া তখনি প্রমাণিত হবে যখন হাদিসের তারিখ জানা যাবে যে, কোনটা আগের এবং কোনটা পরের। তারিখ জানা গেলে আগেরটা রহিত হয়ে যাবে পরেরটা দ্বারা। কিন্তু এখানে কোনটা আগের আর কোনটা পরের তা জানা যায় না।

অনুরূপভাবে কোন কোন হাদীস বাহ্যত সংঘর্ষিক মনে হলে রহিত হওয়ার বিষয়টি তখন আসবে যখন দুটি হাদিসের মাঝে কোনভাবেই সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এখানে মুহাদ্দিসগণ সমন্বয় সাধন করেছেন (যা একটু পরেই আমরা দেখব)। সুতরাং আগের হাদিসগুলো রহিত হওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

 দু ধরণের হাদিসের মাঝে সমন্বয়:

জুমহুর বা অধিকাংশ মুহাদ্দিস উভয় প্রকার হাদিসের মাঝে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেন, নিষেধের হাদিসগুলো দ্বারা كراهت বা অপছন্দনীয় অর্থ উদ্দেশ্য (হারাম উদ্দেশ্য নয়)। অর্থাৎ এ শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা অছন্দনীয় কাজ; হারাম নয়।
 কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং তিনি যে ব্যক্তি শিঙ্গা লাগিয়েছে তাকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন (যেমন পূর্বোক্ত হাদিস সমূহ)
 যে হাদিসে শিঙ্গা লাগিয়ে পারিশ্রমিক নিতে নিষেধ করা হয়েছে (উপরোল্লিখিত মুহায়্যাসা রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিস) সে হাদিসের পরিশেষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: وَأَطْعِمْهُ رَقِيقَكَ “তা দ্বারা তোমার গোলামকে খাওয়াও।” এই উপার্জন হারাম হলে তা দ্বারা গোলামকে খাওয়ানোর কখনো অনুমতি দেয়া হত না। এতে বুঝা যায়, এটি হারাম নয়। তবে অপছন্দনীয়।
যে হাদিসে শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে খবিস বা ঘৃণিত বলা হয়েছে সে হাদিসে খবিস অর্থ অপছন্দনীয়; হারাম নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেঁয়াজ ও রসূন এবং তার গাছকে খবিস বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন নিম্নোক্ত হাদিস:
عن معاوية بن قرة عن أبيه رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من أكل من هاتين الشجرتين الخبيثتين فلا يقربن مسجدنا فإن كنتم لا بد آكليها فأميتوهما طبخا .
মু‘আবিয়াহ ইবন কুররাহ (রা.) তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে এই দুটো নিকৃষ্ট গাছ থেকে খেল সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। যদি তোমাদের এ দুটো খেতেই হয় তাহলে তোমরা রান্না করার মাধ্যমে (এর গন্ধ) নি:শ্বেষিত করে দাও।” (সিলসিলা সহীহাহ, আলবানী হা/৩১০৬)
উক্ত হাদিসে পেঁয়াজ ও রসূনকে খবিস বলা হয়েছে। এ দ্বারা উদ্দেশ্য হারাম নয় বরং অপছন্দীয় উদ্দেশ্য। কোন আলেমই এগুলোকে হারাম বলেন নি। এগুলোকে অপছন্দীয় হওয়ার কারণ হল, এগুলো কাঁচা অবস্থায় খেলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং তাতে মানুষ কষ্ট পায়। সে কারণে আগুনে সিদ্ধ করে দুর্গন্ধ দূর করে খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
(অবশ্য কখনো কখনো খবিস শব্দটি হারাম অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সেটা পূর্বাপর আলোচনা ও অন্যান্য হাদীস থেকে প্রমাণিত হবে)
 শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা অপছন্দনীয় হওয়ার আরেকটি কারণ হল, এটি একটি নোংরা ও নিচু পেশা। কেননা, এতে মানুষের শরীর থেকে মুখ দিয়ে টেনে পঁচা রক্ত বের করা হয়। সে কারণে কখনো কখনো তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়-যা স্বভাবত:ই ঘৃণ্য ও অরুচিকর। এ কারণে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, যে সিঙ্গা লাগায় তার রোযা ভেঙ্গে যায়। কারণ এতে শরীরের পঁচা রক্ত গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
যদিও বর্তমানে শিঙ্গা লাগানোকে আধুনিকায়ন করে কাপিং পদ্ধতিতে সম্পাদন করা হয়।
 আধুনিক যুগের বড় আলমগণ যেমন, বিন বায, উসাইমীন, সালেহ ফাউযান, আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ সকলেই হিজামা বা শিঙ্গা লাগানোকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করাকে অপছন্দ করেছেন তবে মানুষের প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে এর মাধ্যম উপার্জিত অর্থকে বৈধ হিসেবে ফতোয়া প্রদান করেছেন যা পূর্ববর্তী অধিকাংশ আলেমদের ফতোয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

পরিশেষে বলব, কেউ যদি বিনা পরিশ্রমিকে মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে হিজামা বা শিঙ্গা লাগায় তাতে সে সওয়াব পাবে। কিন্তু পেশা হিসেবে এটি অপছন্দনীয় ও নিম্নশ্রেণীর পেশা। কিন্তু তাপরও যদি কেউ যদি জীবিকা অবলম্বনের উপায় হিসেবে একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তাহলে তা জায়েয রয়েছে ইনশাআল্লাহ।
والله أعلم بالصواب
▬▬▬🔸🔹🔸▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার. KSA

Share This Post