মাকড়সা মারা ও তার জাল ভাঙ্গার বিধান এবং এ সংক্রান্ত একটি কুসংস্কার

প্রশ্ন: বাড়িতে কয়েকদিন পরপর মাকড়সা জাল বুনে। মাকড়সার জাল পরিষ্কার করার সময় যদি মাকড়সাকেও মেরে ফেলা হয় তাহলে কি গুনাহ হবে?
“ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে অভাব অনটন দেখা দেয়।” এটা কি সঠিক কথা?

উত্তর:

ঘরের মধ্যে যে সব মাকড়সা থাকে এবং ঘরের কোণে ও এখানে-সেখানে জাল বুনে সে সব মাকড়সাকে মেরে ফেলা বা সেগুলোর জাল ভেঙ্গে ফেলায় কোন দোষ নেই। কেননা হাদিসে এ সম্পর্কে কোন নিষেধাজ্ঞা আসে নি।

তাছাড়া মাকড়সা খাওয়ার জন্য ঘরের মধ্যে টিকটিকি, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি নানা ক্ষতিকর প্রাণীর আগমন ঘটতে পারে-যা নি:সন্দেহে আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

মাকড়সার জালে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ আটকা পড়ে মারা যায়। মরে শুকিয়ে থাকে। তারপর সেখান থেকে নানা রোগ-ব্যাধি ও জীবাণু ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন কোন মাকড়সা বিষধর। অনেক সময় এগুলো খাদ্যদ্রব্যে মরে পড়ে থাকে। এরা দেয়াল, বই-পুস্তক ইত্যাদিতে মল-মূত্র ত্যাগ করে নোংরা করে।
সুতরাং ঘরে মাকড়সা থাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

অতএব, পোকা-মাকড়, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, জীবাণূ ও ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি থেকে ঘর-বাড়ির পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে মাকড়সা মারা ও সেগুলোর জাল ভাঙ্গায় কোন দোষ নেই।

উল্লেখ্য যে, হিজরতের সময় যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী আবু বকর সিদ্দিক রা. সওর পর্বতের গর্তে আত্মগোপন করেছিলেন। তখন গর্ত মুখে একটি মাকড়সা জাল বুনেছিল এবং দুটি কবুতর তার উপর বসে ডিম পেড়ে ডিমে তা দিচ্ছিল… মর্মে যে হাদিসটি শোনা যায় হাদিস বিশারদগণের দৃষ্টিতে তা সহিহ নয়। (সিলসিলা যাঈফা লিল আলবানি, হা/১১২৯)
শাইখ বিন বায রা. এ প্রসঙ্গে বলেন,
ولو فرضنا صحته فإنه لا يمنع من إزالتها من البيوت لأن هذا شيء ساقه الله جل وعلا كرامة لنبيه ومعجزة لنبيه عليه الصلاة والسلام، وحماية له من كيد الكفرة فلا يمنع ذلك إزالتها من البيوت التي ليس لوجودها حاجة فيها ولا حرج في ذلك إن شاء الله.
“এটিকে (মাকড়সা ও কবুতরের ডিম পড়ার হাদিসকে) সহিহ ধরে নিলেও ঘর থেকে মাকড়সার জাল পরিষ্কার করায় বাধা নেই। কারণ, এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কাফেরদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ সাহায্য-যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুজিযা হিসেবে গণ্য। কিন্তু আমাদের ঘরে মাকড়সা থাকার তো কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং এতে (মাকড়সা মারা ও তার জাল ভাঙ্গায়) কোন অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ।” (শাইখের ওয়েব সাইট)

কুসংস্কার:

লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, “ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে অভাব অনটন দেখা দেয়।” অনেকে এটাকে কঠিন ভাবে মানে ও বিশ্বাস করে। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে এ কথার কোনও ভিত্তি নেই। ইসলামি স্কলারগণ এটিকে অবাস্তব ও কুসংস্কার পূর্ণ কথা বলে সাব্যস্ত করেছেন।

কীভাবে অভাব-অনটনের সঙ্গে মাকড়সার জালের সম্পর্ক থাকতে পারে? স্বচ্ছলতা দান বা অভাব-অনটনের মালিক তো কেবল আল্লাহ তাআলা। তিনি চাইলে কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন, চাইলে স্বচ্ছলতা দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا
“নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালো ভাবে অবহিত,-সব কিছু দেখছেন।” (সূরা ইসরা/বনী ইসরাইল: ৩০)

সুতরাং এসব অলীক ও ভ্রান্ত কুসংস্কারে বিশ্বাস রাখা কোন মুসলিমের জন্য জায়েজ নাই। আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।