ভুলে যাওয়ার কারণে সংঘটিত গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন

প্রশ্ন: “যে ভুলে যায় তাকে ফাসেক বলা হয় না” এটা কার উক্তি?”
উত্তর:
“যে ভুলে যায় তাকে ফাসেক বলা হয় না” এটা কার উক্তি-তা জানা নাই। তবে হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার ভুলে যাওয়ার কারণে সংঘটিত অন্যায়ের গুনাহ লিখেন না। সুতরাং সে ব্যক্তি ফাসিক (পাপী) বলে গণ্য হবে না।

◍ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“إنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ”
“আমার উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ আমার উম্মতের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ও ভুল ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার সে কাজ যা সে করতে সে বাধ্য হয়েছে।”
[এ হাদিসটি হাসান। ইবনে মাজাহ্ (নং-২০৪৫), বায়হাকী (সুনান, হাদিস নং-৭) ও আরও অনেকেই এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসের মানঃ হাসান, আন্‌-নওয়াবির চল্লিশ হাদিস]
অর্থাৎ কেউ যদি ভুল বশত: বা স্মৃতি বিভ্রাটের কারণে কোনও অন্যায় করে ফেলে তাহলে তার কোনও গুনাহ লেখা হবে না। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে বা ছুটে যাওয়া আমলটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
যেমন:

◍ অন্য একটি হাদিসে এসেছে, আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল যে, এক ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে গেছে অথবা সালাত না পড়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন,
‏ يُصَلِّيهَا إِذَا ذَكَرَهَا
“যখনই তার স্মরণে আসবে, তখনই সে ঐ সালাত আদায় করবে।” [বুখারি ও মুসলিম সহ কুতুবুস সিত্তাহ]

◍ এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَنْ أَكَلَ نَاسِيًا وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ
“যে রোজাদার ব্যক্তি ভুল বশত: কিছু খায় সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে (রোজা অব্যাহত রাখে)। কেননা, আল্লাহ তাকে পানাহার করিয়েছেন।” [সহিহ বুখারি, অধ্যায়: ৮৩/ শপথ ও মানত, পরিচ্ছেদ: ৮৩/১৫. শপথ করে ভুলে যখন শপথ ভঙ্গ করে]

মোটকথা, ভুলে যাওয়া মানবিক বৈশিষ্ট্য। তা সব মানুষেরই হতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও কিছু বিষয় ভুলে গেছেন। (যেমন: সালাতে ভুল হওয়ার একাধিক ঘটনা)। তাই কোনও মানুষ ভুলে যাওয়ার কারণে কোনও গুনাহ করে ফেললে বা কোনও অপরিহার্য আমল পরিত্যাগ করলে দয়াময় আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে কাল বিলম্ব না করে ছুটে যাওয়া আমলটি সম্পাদন করতে হবে এবং অন্যায় হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে।
আল্লাহু আলাম।

– আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।