কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বেগানা নারী-পুরুষ একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার বিধান

প্রশ্ন: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বেগানা নারী-পুরুষ পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে কি? বা একজন বেগানা নারী কোনও বেগানা পুরুষকে বলতে পারে কি যে, “আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি?”
উত্তর:
কোনও আলেম বা দীনদার ব্যক্তিকে তার ইলম, দাওয়াত, দীনের খেদমত, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ইত্যাদি কারণে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসা জায়েজ। বরং তা নিম্নোক্ত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ। আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ وَطَعْمَهُ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ فِى اللَّهِ وَأَنْ يُبْغِضَ فِى اللَّهِ وَأَنْ تُوقَدَ نَارٌ عَظِيمَةٌ فَيَقَعُ فِيهَا أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا

‘‘তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে সে এগুলো দ্বারা ঈমানের মিষ্টত্ব ও স্বাদ লাভ করবে:
১. মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সকলের চেয়ে তার নিকট প্রিয়তর হবে,
২. সে আল্লাহর জন্যই ভালবাসবে এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা বা অপছন্দ করবে এবং
৩. বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করা হলে সে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়াকে সে আল্লাহর সাথে শিরক করা অপেক্ষা অধিক পছন্দ করবে।’’ [সহিহ মুসলিম, ১/৪৮, অধ্যায়: ঈমান, অনুচ্ছেদ, যে সব বৈশিষ্ট্যের কারণে ঈমানের সাধ লাভ করা যায়]

অন্য হাদিসে প্রখ্যাত সাহাবি আবু উমামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ

‘‘যে আল্লাহর জন্য ভালবাসবে, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করবে, আল্লাহর জন্য প্রদান করে এবং আল্লাহর জন্যই প্রদান থেকে বিরত থাকে তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে।’’ [আবু দাউদ, (শামিলা) ৪/৩৫৪, অধ্যায়: সুন্নাহ, অনুচ্ছেদ: ঈমান বৃদ্ধি। হাদিসটি সহীহ]

এ সকল হাদিসের নির্দেশনা খুবই সুস্পষ্ট। মুমিন ব্যক্তি ঈমান ও ঈমানদারদেরকে ভালবাসবেন এবং কুফর ও কুফরে লিপ্ত মানুষদেরকে ঘৃণা করবে বা অপছন্দ করবে।

তবে নন মাহরাম নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের কারও নিকট এই ভালবাসার কথা প্রকাশ করা জায়েজ নয় যদি ফেতনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যুবক-যুবতিদের জন্য তা নিষিদ্ধ। কেননা, এতে সম্ভাবনা আছে, তারা একে অপরের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করবে-যা তাদেরকে ক্রমান্বয়ে ফেতনার দিকে টেনে নিয়ে যাবে। তবে যদি ফেতনার আশঙ্কা না থাকে তাহলে সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ। যেমন: কোনও বয়োবৃদ্ধ বিখ্যাত আলেমের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ বা এমন ব্যক্তি যাকে ভালোবাসার কথা বললেও ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারি শিশু-কিশোর ও মহিলাদের উদ্দেশ্যে তাদেরকে ভালবাসার কথা বলেছেন। আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ وَالصِّبْيَانَ مُقْبِلِيْنَ قَالَ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ مِنْ عُرُسٍ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُمْثِلًا فَقَالَ اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ قَالَهَا ثَلَاثَ مِرَارٍ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম (মদিনার আনসারদের) কতিপয় বালক-বালিকা ও নারীকে আগমন করতে দেখে তাদের উদ্দেশে স্থির দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, “আল্লাহ সাক্ষী, তোমরা আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের অন্তর্ভুক্ত।” কথাটি তিনি তিন বার বললেন।
(বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বিয়ের ওলিমা অনুষ্ঠান থেকে ফিরে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেছেন)
[সহীহুল বুখারি, অনুচ্ছেদ: ৬৩ ; আনসার সাহাবিদের মর্যাদা, অধ্যায় ৫, মুসলিম, অনুচ্ছেদ: ৪৪ : সাহাবিদের মর্যাদা, অধ্যায়, ৪৩]

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি স্বনামধন্য আলেমে দীন শাইখ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বাজ রাহ. কে রেডিও/টেলিভিশনের বিভিন্ন ইসলামি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে ফোন করে বলতেন, “শাইখ, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসি।” শাইখ জবাবে বলতেন, “আল্লাহও আপনাকে ভালবাসুন যার উদ্দেশ্যে আপনি আমাকে ভালবাসেন।” তিনি মহিলাদেরকে তা বলতে নিষেধ করতেন না। এমনটি অন্যান্য বড় আলেমদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।

উল্লেখ্য যে, যে হাদিসে বলা হয়েছে যে, কোনও ব্যক্তি কাওকে ভালবাসলে সে যেন তার নিকট তা প্রকাশ করে” সে হাদিসের উদ্দেশ্যে হল, এক মুসলিম পুরুষ অন্য মুসলিম পুরুষকে বলবে বা এক মুসলিম নারী অন্য নারীকে বলবে অথবা স্বামী/স্ত্রী পরস্পরকে বা মাহরাম ব্যক্তিকে বলবে।
قال المنَّاوي – رحمه الله – :
” ( إذا أحب أحدكم عبداً ) أي : إنساناً … فالمراد : شخص من المسلمين قريب أو غيره ، ذكراً أو أنثى ، لكن يظهر تقييده فيها بما إذا كانت حليلته أو محرَمه ” .
انتهى من ” فيض القدير ” ( 1 / 319 ) .
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈♡◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।।

Share This Post