কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিশেষ কারণ ছাড়া একই ফরজ সালাত এক দিনে দু বার পড়া শরিয়ত সম্মত নয়

প্রশ্ন: আমি কি একই সালাত দু বার জামাআতে পড়তে পারব?
উত্তর:
বিশেষ কারণ ছাড়া ফরয সালাত পূণরায় পড়া জায়েয নেই। একাকী হোক অথবা জামাআতে হোক। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«لَا تُصَلُّوا صَلَاةً فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ»
“তোমরা একই দিনে একই সালাত দু বার পড়ো না”।(আবু দাউদ-হাসান/সহিহ, সহিহুল জামে লিল আলবানী, হা/৭৩৫০)
অর্থাৎ একই দিনে একই ফরজ সালাত ফরজের নিয়তে দু বার পড়া। এটা জায়েজ নয়।

তবে বিশেষ কারণে একই ফরজ সালাত দ্বিতীয়বার পড়া জায়েজ আছে। যেমন:

◉ ক. কোনো সালাত একবার একাকী ফরজের নিয়তে পড়ার পর দ্বিতীয়বার নফলের নিয়তে জামাআতের সাথে পড়া। এটা শরিয়ত সম্মত।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
جَابِرُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ الْعَامِرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله
عليه وسلم حَجَّتَهُ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ صَلاَةَ الصُّبْحِ فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ وَانْحَرَفَ إِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ فِي أُخْرَى الْقَوْمِ لَمْ يُصَلِّيَا مَعَهُ فَقَالَ ‏”‏ عَلَىَّ بِهِمَا ‏”‏ ‏.‏ فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا فَقَالَ ‏”‏ مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا ‏”‏ ‏.‏ فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا ‏.‏ قَالَ فَلاَ تَفْعَلاَ إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمَا ثُمَّ أَتَيْتُمَا مَسْجِدَ جَمَاعَةٍ فَصَلِّيَا مَعَهُمْ فَإِنَّهَا لَكُمَا نَافِلَةٌ ‏”

ইযাযিদ ইবনুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমি হজ্জে হাযির ছিলাম। তাঁর সঙ্গে মসজিদে খায়ফে ফজরের সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি যখন ফিরলেন তখন শেষ প্রান্তে দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। এরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেনি। তিনি বললেন এদেরকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাদের নিয়ে আসা হল। তখন ভয়ে তাঁদের ঘাড়ের রগ পর্যন্ত কাঁপছিল।
তিনি তাদের বললেন, আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতে তোমাদের কিসে বাধা দিল?

তাঁরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আমাদের অবস্থান স্থলে সালাত পড়ে নিয়েছিলাম।

তিনি বললেন: “এরূপ করবে না। যদি তোমাদের অবস্থান স্থলে সালাত পড়ে মসজিদে জামা’আতে আস তবে তাদের সঙ্গে জামাআতে শরিক হয়ে যাবে। তোমদের জন্য তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।” (সহিহ আবু দাউদ ৫৯০, তিরমিজি, হাদিস নাম্বার: ২১৯ [আল মাদানি প্রকাশনী])

আল ইসতিযকার গ্রন্থে এসেছে যে, আহমদ বিন হাম্বল ও ইসহাক রাহওয়াইহ এ ব্যাপারে একমত যে,
أن معنى قوله صلى الله عليه و سلم ( لا تصلوا صلاة في يوم مرتين ) أن ذلك أن يصلي الرجل صلاة مكتوبة عليه ثم يقوم بعد الفراغ منها فيعيدها على جهة الفرض أيضا ، وأما من صلى الثانية مع الجماعة على أنها نافلة اقتداء بالنبي صلى الله عليه و سلم في أمره بذلك : فليس ذلك من إعادة الصلاة في يوم مرتين لأن الأولى فريضة والثانية نافلة فلا إعادة حينئذ
” عون المعبود ” ( 2 / 202 ) :
সুনানে আবু দাউদ এর বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ আউনুল মাবুদে বলা হয়েছে: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: «لَا تُصَلُّوا صَلَاةً فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ» “তোমরা একই দিনে একই সালাত দু বার পড়ো না।” এ কথার অর্থ হল, ফরজ সালাত একবার আদায় করার পর পুনরায় তা ফরযের নিয়তে আদায় করা। (এটি জায়েজ নয়)। তবে কেউ যদি দ্বিতীয় বার তা নফল হিসেবে জামাআতের সাথে আদায় করে-যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন-তাহলে তা একই দিনে দু বার সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা প্রথমটি ফরয আর দ্বিতীয়টি নফল। সুতরাং এটি তখন পুনরাবৃত্তি হবে না।” (আউনুল মাবুদ ২/২০২)

➧ আরেকটি হাদিস:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْصَرَ رَجُلاً يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ ‏ “‏ أَلاَ رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ ‏”‏
আবু সাঈদ আল খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে (জামাআতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে, এই ব্যক্তির উপর সদকা করবে এবং তার সাথে জামাতে অংশ গ্রহণ করবে? (অর্থাৎ তার সাথে জামাতে অংশ গ্রহণ করে তার সওয়াব বৃদ্ধি করবে) (তিরমিযী, সহিহ-তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবিহ, হা/১১০৪)।

এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে, একবার জামাআতের সাথে ফরজ সালাত আদায় করার পর একই সালাত দ্বিতীয়বার জামাআতের সাথে আদায় করা জায়েয আছে। তবে ২য়টি নফল এর নিয়তে আদায় করবে; ফরজের নিয়তে নয়। যেমনটি অন্যান্য হাদিস থেকে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

◉ খ. অনুরূপভাবে প্রয়োজন হলে ফরজ সালাত একবার জামআতের সাথে পড়ার পর দ্বিতীয়বার লোকদেরকে নিয়ে ইমাম হিসেবে উক্ত সালাত পড়া জায়েজ আছে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
كان معاذٌ يُصلِّي مع النبيِّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم العِشاءَ، ثم يَطلُع إلى قومِه فيُصلِّيها لهم؛ هي له تطوُّعٌ، ولهم مكتوبةُ العِشاءِ
واه الشافعيُّ في ((المسند)) (237)، والطحاوي في ((شرح معاني الآثار)) (2360)، والدارقطني في ((السنن)) (1075)، والبيهقي في ((معرفة السنن والآثار)) (4/153)
وقال ابنُ الملقِّن في ((البدر المنير)) (4/476): أصلُه متَّفق عليه، وصححه ابن حجر في ((فتح الباري)) (2/229).
মুআয বিন জাবাল রা. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করার পর নিজে গোত্রে গিয়ে ইমাম হিসেবে উক্ত সালাত আদায় করতেন। এটি তার জন্য নফল হিসেবে আর অন্যান্য লোকদের জন্য ইশার ফরয সালাত হিসেবে গণ্য হত।”
(মুসনাদে শাফেঈ, শারহু মাআনিল আসার লিত ত্বহাবী, দারাকুতনি, বায়হাকি প্রমুখ। এটি সর্বসম্মতভাবে সহিহ)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Daee at jubail dawah & guidance center. KSA

Share This Post