কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

পুরুষদের জন্য সোনা ও রূপার মালা, আংটি ইত্যাদি পরার বিধান

প্রশ্ন: পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রূপার মালা, আংটি ইত্যাদি পরা কি জায়েজ?

উত্তর:

পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরি আংটি, হাত ঘড়ি, ব্রেসলেট, গলার মালা, চশমার ফ্রেম, জামার বোতাম, কলম ইত্যাদি ব্যবহার করা জায়েজ নয়। কেননা, হাদিসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে।

❑ পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম:
এ ব্যাপারে হাদিস হলো, যায়েদ ইবনে আকরাম রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِإِنَاثِ أُمَّتِي, وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهِمْ»
“স্বর্ণ ও রেশমি বস্ত্র আমার উম্মতের নারীদের জন্য বৈধ এবং পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।” (সিলসিলা সহীহা হা-১৮৬৫/৩০৩০)

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ‘আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন,
إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ حَرِيرًا فَجَعَلَهُ فِي يَمِينِهِ وَأَخَذَ ذَهَبًا فَجَعَلَهُ فِي شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ ‏ “‏ إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي”‏ ‏
“আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডান হাতে রেশম ও বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন: এ দু’টি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।” (সুনানে আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ নারীদের জন্য রেশমি পোশাক বৈধ,সহিহ)

ইমাম নওবী বলেন:
“وأما خاتم الذهب فهو حرام على الرجل بالإجماع ، وكذا لو كان بعضه ذهبا وبعضه فضة
“ইজমা তথা সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম। যদিও তার কিছু অংশ স্বর্ণ আর কিছু অংশ রৌপ্য হয়।” (শরহে মুসলিম ১৪/৩২)

❑ রৌপ্যের তৈরি ঘড়ি, আংটি ইত্যাদি ব্যবহার করা জায়েজ:

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য রৌপ্যের আংটি, ঘড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَبِسَ خَاتَمَ فِضَّةٍ فِي يَمِينِهِ
“আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতে রূপার একটি আংটি পরেছেন।” [সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: [৫৩১৯]অধ্যায়: ৩৮/ পেষাক ও সাজসজ্জা, সহীহ- ইফা]

সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের আলেমগণ বলেন:
اتخاذ الخواتم للرجال جائز إذا كانت من الفضة أو من الأحجار الكريمة غير الذهب ، لما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه اتخذ خاتما من وَرِق [أي : فضة] ، متفق عليه
“পুরুষদের জন্য আংটি পরিধান করা জায়েজ যদি তা রৌপ্য অথবা মূল্যবান পাথর থেকে তৈরি হয়-স্বর্ণের তৈরির না হয়। কেননা সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রৌপ্যের তৈরি আংটি ব্যবহার করেছেন।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

❑ পুরুষদের জন্য গলায় মালা পরিধান করার বিধান:

গলায় মালা, চেইন বা লকেট পরা নারীদের সাজ-সজ্জার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং পুরুষদের জন্য তা ব্যবহার করা হারাম।অনুরূপভাবে পুরুষদের জন্য হাতের ব্রেসলেইট, চুরি, কানের দুল ইত্যাদি পরাও হারাম। সেটি তৈরির উপাদান স্বর্ণ হোক বা অন্য কিছু হোক। কেননা হাদিসে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য অবলম্বনকে অভিসম্পাত যোগ্য গর্হিত কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,
«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ، وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীদের পোশাক পরে এবং সেসব নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের পোশাক পরিধান করে।” [আবু দাউদ : ৪০৯৮]

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
لَيسَ منَّا مَن تشبَّهَ بالرِّجالِ منَ النِّساءِ ولا من تَشبَّهَ بالنِّساءِ منَ الرِّجالِ

“যে নারী পরুষের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যে সব পুরুষ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন করে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, সহীহুল জামে হা/৪৫৩৩, সহীহ)

আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রাহ. বলেন:
أما إذا كانت الساعة من الأحجار الكريمة غير الذهب ، فيجوز للرجل لبسها ، ما لم تكن من حلى النساء أو تشبهه ، وما لم يكن اقتناؤها من الإسراف

“ঘড়ি যদি স্বর্ণ ছাড়া মূলবান পাথরের তৈরি হয় তাহলে তা পুরুষদের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ যদি তা নারীদের অলঙ্কার অথবা তাদের সাদৃশ্য না হয় এবং যদি তাতে অপচয় না করা হয়।” (ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ইবনে ইসাইমীন ১১/৬২)

মোটকথা, পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরি কোন কিছুই ব্যবহার কর বৈধ নয়। অনুরূপভাবে নারীদের সাজ-সজ্জার অন্তর্ভুক্ত কোন কিছু ব্যবহার করা বৈধ নয়। তবে রৌপ্য, মূল্যবান স্টোন, ডায়মন্ড বা অন্য যেকোনো মূল্যবান ধাতব বস্তু থেকে হাত ঘড়ি, আংটি ইত্যাদি ব্যবহারে কোন দোষ নাই ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post