কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

পুরাতন, ছেঁড়া ও পড়ার অযোগ্য কুরআন কী করা উচিৎ

প্রশ্ন: পুরাতন, ছেঁড়া ও পড়ার অযোগ্য কুরআন কী করা উচিৎ?
▬▬▬🔸🔷🔸▬▬▬
উত্তর:
 প্রথমত: সম্ভব হলে পুরাতন,ছেড়া-ফাটা কুরআন মেরামত/বাইন্ডিং করে ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা করতে হবে। এতে একটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্ন নেয়ার কারণে ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাওয়া যাবে।

 কিন্তু কোনোভাবে তা মেরামত করা সম্ভব না হলে তখন সেগুলো অত্যন্ত সম্মানের সাথে আগুন দ্বারা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

কুরআন অতীব পবিত্র ও সম্মানের বস্তু। আর তাই কোনভাবে যেন তার সম্মানহানি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই সম্ভবত: সাহাবায়ে কেরাম অব্যবহারযোগ্য কুরআনের কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মূল কুরায়শী আরবিতে কুরআন নাযিল হয়েছিল। পরে অন্য উপভাষাতেও কুরআন পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাতে শব্দ ও মর্ম গত বিপত্তি দেখা দিলে ৩য় খলীফা উসমান (রাঃ) কুরআনের মূল কুরায়শী কপি রেখে বাকি সব কপি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে কেবল সেই কুরআনই সর্বত্র পঠিত হয় (বুখারী, মিশকাত হা/২২২১)। আল হামদুলিল্লাহ।

পোড়ানোর ক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখতে হবে যেন, কুরআনের অক্ষরগুলো চেনা না যায়। কেননা, অনেক সময় পোড়ানো কাগজেও অক্ষর দেখা যায়। তাই ছাইগুলোও এমনভাবে গুড়া করে দিতে হবে যেন কুরআনের অক্ষরগুলো সম্পূর্ণরূপে মুছে যায়।
➤ আধুনিক যুগে কাগজ গুড়া করার মেশিন (Paper shredder)পাওয়া যায়। এ সব মেশিন ব্যবহার করেও কুরআনের অকেজো পাতাগুলোকে খুব সূক্ষ্মভাবে গুড়া করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন, গুড়া করার পর কুরআনের কোন অক্ষর অক্ষত না থাকে।

 তবে অনেক আলেম বলেছেন যে, তা এমন স্থানে দাফন করাও জায়েয রয়েছে যেখানে মানুষজন চলাফেরা করে না বা যেখানে ময়লা ফেলা হয় না।
তবে ১ম পদ্ধতিটি সর্বোত্তম। কেননা, এ মর্মে সাহাবীদের আমল রয়েছে।

 একটি সতর্কতা:

আমাদের দেশে সময় দেখা যায়, ছেড়া-ফাটা ও ব্যবহার অনুপযোগী কুরআন বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে আসা হয়! কিন্তু এমনটি করা সঙ্গত নয়। কারণ পানিতে ডুবে থাকলেও কুরআনের অক্ষরগুলো দীর্ঘ দিন অবশিষ্ট থাকে। আর তা অনেক সময় জেলেদের জালে উঠে আসে বা নদীতে গমনকারীদের পদদলিত হয়। সুতরাং এ কাজটি নি:সন্দেহে পরিত্যাজ্য।

আল্লাহু আলাম।
◆◆◆◆◆❖❖❖◆◆◆◆◆◆
উত্তর প্রদানে:
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post