কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

নিয়ত বা মনোবাসনা পূরণের জন্য কুরআন খতম করার বিধান কি

প্রশ্ন: কোন হালাল নিয়্যাহ বা মনোবাসনা পূরণ হওয়ার জন্যে -(যেমন, ভালো চাকুরী বা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা ইত্যাদি) কি একা বা সম্মিলিতভাবে কুর’আন খতম জায়েজ?

উত্তর:
বিশেষ কোন নিয়ত পূরণের উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে কুরআন খতম করা দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এ ধরণের কার্যক্রমের কোন ভিত্তি নেই।
আর কয়েকজন মিলে ভাগে কুরআন পড়লে তাকে মূলত: খতম বলা যায় না। কেননা, প্রত্যেকেই তার নির্দিষ্ট অংশ পড়েছে। কেউই কুরআন খতম করে নি। যে ব্যক্তি যতটুকু পড়েছে সে ততটুকু সওয়াব পাবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ- رواه الترمذي
“যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।”[তিরমিযী, সহীহ-দ্রষ্টব্য সহীহুত তিরমিযী হা/১৯১০]

তবে কোন ব্যক্তি যদি বৈধ কোন নিয়ত পূরণ করতে চায় তাহলে নিজে নিজে যতটুকু সম্ভব কুরআন পাঠ করে তার ওসিলায় মহান রবের কাছে দুআ করতে পারে। অনুরূপভাবে, সিজদা অবস্থায়, ভোর রাতে, ইফতারের আগ মুহূর্তে, সফর অবস্থায় বা অন্যান্য যে সকল ক্ষেত্রে দুআ কবুলের সম্ভাবনা বেশী থাকে সে সকল ক্ষেত্রে দুআ করলে মহান আল্লাহ হয়ত তার দুআ কবুল করে তার মনোবাসনা পূরণ করবেন। আল্লাহ তাওফিক দান কারী।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আবর

Share This Post