কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

নির্জন ও জনমানবহীন এলাকায় তিনজনের কমে ভ্রমণ নয়

প্রশ্ন: সফর করার সময় কি সর্বনিম্ন তিনজন থাকা জরুরি?
উত্তর:
মানবতার সবচেয়ে কল্যাণকামী বন্ধু ও পথপ্রদর্শক প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনজনের কমে ভ্রমণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। এ মর্মে নিন্মে দুটি হাদিস তুলে ধরা হল:
❑ আমর ইবনে শু‘আইব রা. থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ، وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ
“একাকী সফরকারী হচ্ছে একটি শয়তান, আর একত্রে দু’ জন সফরকারী দু’টি শয়তান। তবে একত্রে তিনজন সফরকারীই হচ্ছে প্রকৃত কাফেলা।”
(সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত) অধ্যায়ঃ ৯/ জিহাদ (كتاب الجهاد), পরিচ্ছদঃ একাকী সফর করা, হাদিস নম্বরঃ [2607]
এখানে ‘শয়তান’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নাফরমান বা অবাধ্য। (ইবনে খুযাইমা রহ.)

❑ ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي الْوَحْدَةِ مَا أَعْلَمُ مَا سَارَ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ
“যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী সফর করত না।”
(সহিহ বুখারী, অধ্যায়: জিহাদ, অধ্যায়: নিঃসঙ্গ ভ্রমণ, হা/২৯৯৮)
এ সকল হাদিসের আলোকে আলেমগণ বিজন মরু প্রান্তর বা নির্জন পথ দিয়ে একান্ত বাধ্য না হলে এক বা দু ব্যক্তির ভ্রমণকে অ পছন্দনীয় বলেছেন। কেননা এতে তার/তাদের নানা সমস্যা, ক্ষয়-ক্ষতি ও বিপদাপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে শয়তানের চক্রান্তে ফেঁসে যাওয়ার ও বিপথগামী হওয়ার। বিশেষ করে রাতের বলায় বিপদের আশঙ্কা আরও বেশি থাকে। তবে তিন বা ততোধিক ব্যক্তির একসাথে ভ্রমণ তুলনা মূলক নিরাপদ। অবশ্য একান্ত জরুরি হলে অর্থাৎ যদি সফর সঙ্গী না পাওয়া যায় তাহলে ভিন্ন কথা।

◈ বর্তমান যুগের ভ্রমণ এবং হাদিসের প্রয়োগ:

বর্তমান যুগে যে সব রাস্তায় প্রচুর মানুষ বা যানবাহন চলাচল করে অথবা যে সকল যানবাহনে একসাথে অনেক মানুষ থাকে (যেমন: বাস, রেল, উড়োজাহাজ, পানি জাহাজ ইত্যাদি) সে ক্ষেত্রে একাকী বা দুজন একসাথে ভ্রমণ করা উক্ত হাদিসের আওতায় পড়বে না। কারণ, তা মূলত: নি:সঙ্গ ভ্রমন নয়। এ সব পথে চলাচলের সময় মানুষ বিপদে পড়লে সাধারণত: অন্যান্য মানুষ ও রাস্তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ইত্যাদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে।
আধুনিক যুগে শ্রেষ্ঠতম মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী রহ. উপরোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন:
” ولعل الحديث أراد السفر في الصحارى والفلوات التي قلما يرى المسافر فيها أحدا من الناس ، فلا يدخل فيها السفر اليوم في الطرق المعبدة الكثيرة المواصلات . والله أعلم ” انتهى
“সম্ভবত: হাদিসের উদ্দেশ্য হল, মরু প্রান্তর বা নির্জন পথে ভ্রমণ করা-যেখানে একজন ভ্রমণকারী খুব কমই অন্য কাউকে দেখতে পায়। সুতরাং বর্তমানে ব্যাপক জনবহুল ও প্রচুর যানবাহন চলাচল করে এমন পথ দিয়ে ভ্রমণ করা এর আওতাভুক্ত নয়। আল্লাহু আ’লাম-আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।” (সিলসিলা সহিহাহ)
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন রহ. সহ অনেক আধুনিক যুগের আলেম প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেন।
আল্লাহু আলাম।
—————-
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post