কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

দুনিয়াতে মানুষের সাথে মানুষের সুসম্পর্ক ও মিল-মহব্বত কেন হয়?

প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে, আমাদের যাদের রূহ দুনিয়াতে আসার আগে এক সাথে ছিল তাদের সাথে দুনিয়াতে আমাদের মিল-মুহাব্বত ঐ রকমই থাকে যেমন রূহের জগতে ছিল। এটা কি হাদিসে এ আছে? এর সত্যতা কতটুকু?

উত্তর:
এ মর্মে নিম্নোক্ত হাদিসটি এবং তার ব্যাখ্যা পড়ুন:
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“‏ الأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ
“রূহসমূহ সৈনিকদের মত সংঘবদ্ধ (marshaled hosts) ছিলো। সুতরাং যারা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করছে তারা দুনিয়াতে পরস্পরে প্রীতি বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর যারা সেখানে অপরিচিত তারা এখানেও ভিন্ন থাকে।” (সহিহ মুসলিম, অধ্যায়: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ: রূহসমূহ সমাজবদ্ধ)

ব্যাখ্যা:
🔶 রূহ পৃথিবীতে আসার পূর্বে সমাজবদ্ধ বিভিন্ন শ্রেণীর ছিল। বর্ণিত আছে যে, মানুষকে সৃষ্টি করে সমাজবদ্ধভবে করা হয়েছে। তারপর তা বিভিন্ন দেহে পৃথকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং যার স্বভাব জগতের যার সাথে মিল আছে তাকে সে ভালবাসবে। আর স্বভাবের সাথে যার মিল নেই, তার থেকে সে ভিন্ন থাকবে।

🔶 ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর সম্ভাব্য অর্থ এটা হতে পারে যে, এ সমস্ত মানুষের রূহগুলো কল্যাণ-অকল্যাণের দিক বিবেচনায় সাদৃশ্যপূর্ণ। মানুষের অবয়ব অনুপাতে তাদের দিকে কল্যাণ প্রসারিত হতে পারে। ঠিক তার মতই অকল্যাণের বিষয়টি। অতএব ঐগুলোর পরস্পরের পরিচিতি তাদেরকে যে বৈশিষ্ট্যের উপর সৃষ্টি করা হয়েছে সে বৈশিষ্ট্যের উপরই হয়ে থাকে।
সুতরাং তারা যখন একই বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় তখন তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে পরিচিতি লাভ করে। পক্ষান্তরে তাদের বৈশিষ্ট্য যদি ভিন্ন ভিন্ন হয় তখন তারা পরস্পর অপরিচিত থেকে যায়।

এর অর্থ এটা হওয়ারও সম্ভাবনা আছে যে, অদৃশ্যে আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন সৃষ্টিকুলের যে সৃষ্টি শুরু করেছিলেন সে কথাই এখানে বলা হয়েছে। রূহগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে শরীরের আগে। যখন রূহগুলো শরীরে প্রবেশ করলো তখন তারা পরিচিতি লাভ করলো।

কেউ কেউ বলেছেন, রূহ যখন প্রথম সৃষ্টি করা হয় তখন দু’ প্রকার করে সৃষ্টি করা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খণ্ড, হা/ ৪৮২)

🔶 মুসনাদে আবু আইয়ালাতে বর্ণিত হয়েছে,
كانت امرأة مزاحة بمكة فنزلت على امرأة مثلها في المدينة , فبلغ ذلك عائشة فقالت : صدق حبي , سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” فذكر مثله .
মক্কায় একজনখুব রসিক (কৌতুক কারী) মহিলা ছিলেন। তিনি (হিজরত করে) মদিনায় যাওয়ার পর অনুরূপ বৈশিষ্টের আরেকজন মহিলার নিকট থাকার স্থান পায়। মা আয়েশা রা. এই খবর পেয়ে বললে, আমার প্রিয়তম সত্যই বলেছেন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে শুনেছি:..(তারপর তিনি উপরোক্ত হাদিসটি পেশ করেন)। [মুসনাদে আবি ইয়ালা, উমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থকে বর্ণিত]
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, Jubail Dawah & Guidance Center – Bangla Section, K.S.A

Share This Post