কনে দেখতে গিয়ে বরের পক্ষ থেকে তাকে কিছু টাকা বা উপহার সামগ্রী দেওয়ার বিধান

প্রশ্ন: বিয়ের উদ্দেশ্যে কনে দেখতে গেলে তাকে হাদিয়া/উপহার হিসেবে কিছু টাকা বা কোনও উপহার সামগ্রী দেওয়া কি জায়েজ?
উত্তর:
কনে দেখার পর তাকে বরের পক্ষ থেকে তাকে কিছু টাকা বা উপহার সামগ্রী দেওয়া জায়েজ। এটিকে হারাম বলার কোন সুযোগ নাই। কেননা,

▪️ইসলামে উপহার লেনদেন করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে পারস্পারিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। এটি উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশও বটে।

উপহার লেনদেন প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنِ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَهَادُوا تَحَابُّوا
আবু হুরাইরা রা. কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা উপহার বিনিময় করো তাহলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হবে।’’ [বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ৫৯৪, আবু ইয়ালা, ৬১৪৮, সহীহুল জামে’ ৩০০৪]

সুতরাং বর-কনে যদি বিয়ের পূর্বে একে অপরকে দেখে এবং উপহার লেনদেন করে তাহলে তা বৈধ। তবে শর্ত হল, তা হতে হবে কনের পরিবারের মাধ্যমে। গোপনে বা কোনো নির্জন স্থানে তাদের কোথাও দেখা-সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মিলিত হওয়া বা একে অপরকে উপহার লেনদেন করা জায়েজ নেই। কারণ তা উভয় কে ফিতনার দিকে ধাবিত করতে পারে।
মোটকথা, ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলে শরিয়ত নিষেধ কৃত বা হারাম ক্ষেত্র ছাড়া যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে সৎ উদ্দেশ্যে উপহার দেওয়া জায়েজ।

▪️সম্মানিত ফকিহগণ কনেকে বিয়ের পূর্বে উপহার প্রদানকে বৈধ বলেছেন। যেমন: ইবনে তায়মিয়া রাহ. বলেন,
ولو كانت الهدية قبل العقد وقد وعدوه بالنكاح فزوجوا غيره رجع بها ” انتهى من “الفتاوى الكبرى” (5/472)
“যদি আকদ এর পূর্বে উপহার দেওয়া হয় এবং কনের পরিবার তার সাথে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে অন্য কারও সাথে তার বিয়ে দেয় তাহলে তা ফেরত নিতে পারে।” [আল ফাতাওয়া আল কুবরা ৫/৪৭২]

বিয়ের পূর্বে কনেকে উপহার দেওয়ার ব্যাপারে পূর্ববর্তী ফিকহগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কিন্তু তারা কেউ হারাম বলেছেন বলে জানা নাই।

▪️তাছাড়া কনে দেখতে গিয়ে কনেকে কিছু টাকা বা উপহার দেওয়া এটা আমাদের সামাজিক রীতি ও দেশাচার। আর ইসলামের শরিয়তে দেশাচার ও সামাজিক প্রথা, ও আঞ্চলিক রীতিনীতিকে হারাম বলা হয় নি যতক্ষণ না তাতে শরিয়া বিরুদ্ধ কিছু থাকে। যদি সেগুলোতে ইসলামের নিষিদ্ধ ও হারাম কিছুর মিশ্রণ ঘটে তাহলে তখন অবশ্যই তা হারাম। এই কারণে ফকিহগণ বলেন,
العادة محكمة
“মানুষের রীতি-নীতি শরিয়তের বিধান সাব্যস্ত কারী হিসেবে গণ্য হবে।” (তবে শর্ত হল, তাতে শরিয়ত বিরুদ্ধ বা হারাম কোনও কিছু থাকতে পারবে না।) এই মূলনীতির ব্যাপারে ফকিহগণ সকলেই একমত।

▪️আমাদের সমাজে পাত্রী দেখতে গেলে পাত্রীর হাতে কিছু টাকা বা কোনও উপহার সামগ্রী দেওয়ার প্রথা চালু থাকার একটা কারণ হতে পারে যে, মানুষ যখন কোন মেয়েকে বিয়ের উদ্দেশ্যে দেখতে যায় তখন মেয়ে পক্ষ সাধারণত: তাদের কিছু আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে। সে ক্ষেত্রে তাদের বেশ কিছু খরচ হয়। কিন্তু যেহেতু এখনো তাদের মাঝে বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি হয় নি তাই খাওয়া-দাওয়ার পর বর পক্ষ মেয়ের হাতে কিছু নগদ অর্থ দিয়ে থাকে। এটা আমাদের দেশের একটা সামাজিক রীতি। এতে দোষের কিছু নেই। কারণ যদি তারা খেয়েদেয়ে হাত ধুয়ে ফিরে চলে আসে-মেয়ে পক্ষকে কিছু টাকা-পয়সা না দেয়- তাহলে এটা অভদ্রতা বা অসামাজিকতা হিসেবে গণ্য হয়।

▪️এ টাকা দেওয়ার প্রথাটা চালু হওয়ার আরও একটা কারণ হতে পারে যে, যদি টাকা দেওয়ার প্রথা না থাকতো তাহলে কিছু বাটপার ও পেটুক টাইপের মানুষ কনে দেখার নাম দিয়ে শুধু মানুষের বাড়ি বাড়ি খেয়ে বেড়ানোর ধান্ধা করত। এ পথটা বন্ধ করার জন্যেও হয়ত খাওয়া-দাওয়ার পর টাকা দেওয়ার নিয়মটি চালু হয়েছে।
আল্লাহ ভালো জানেন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।