কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ঋণে কুরবানি করার বিধান

প্রশ্ন: কারো যদি ঋণ (মোটামুটি পরিমাণ) থাকে তাহলে তার উপর কুরবানি করা জরুরি না। এ কথা ঠিক?

উত্তর: যদি ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য থাকে তবে কুরবানি দেয়া ভালো। অর্থাৎ বর্তমানে হাতে টাকাপয়সা না থাকলেও তার কাছে এমন কিছু সম্পদ আছে যা দ্বারা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব তাহলে সাময়িকভাবে কারো নিকট ঋণ নিয়ে কুরবানি করতে কোনো আপত্তি নাই।

অনুরূপভাবে যদি এককালীন বা কিস্তিতে কুরবানির দাম পরিশোধ করার শর্তে বাকিতে কুরবানি ক্রয় করা হয় তাহলে তাতেও কোনো আপত্তি নাই-যদি ঋণ পরিশোধ করার মত অন্যান্য সম্পদ তার মালিকানায় থাকে।

উল্লেখ্য যে, কুরবানির বিধান হল, অধিকাংশ আলেমের মতে তা সুন্নতে মুআক্কাদা। মতান্তরে ওয়াজিব।

💠 ঋণে কুরবানি করার ব্যাপারে আলেমদের মতামত পেশ করা হল:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ কে জিজ্ঞেস করা হল, যে ব্যক্তির কুরবানি করার ক্ষমতা নেই সে কি (কুরবানির করার জন্য) ঋণ নিতে পারে?
উত্তরে তিনি বলেন:
” إن كان له وفاء فاستدان ما يضحي به فحسن ، ولا يجب عليه أن يفعل ذلك ” انتهى
“مجموع الفتاوى” (26/305) .
“যদি ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকে তাহলে কুরবানি করার সমপরিমাণ ঋণ নেয়া ভালো। কিন্তু এমনটি করা তার জন্য ওয়াজিব নয়।” (মাজমু ফাতাওয়া ২৬/৩০৫)
শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রহঃ কে জিজ্ঞেস করা হল, যার কুরবানি দেয়ার ক্ষমতা নেই তার জন্য কি কুরবানি দেয়া ওয়াজিব? আর বেতন এর উপর ঋণে কুরবানি নেয়া কি জায়েজ আছে?
তিনি বলেন:
” الأضحية سنة وليست واجبة . . . ولا حرج أن يستدين المسلم ليضحي إذا كان عنده القدرة على الوفاء ” انتهى “فتاوى ابن باز” (1/37)
কুরবানি করা সুন্নত; ওয়াজিব নয়। আর ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা থাকলে মুসলিম ব্যক্তি ঋণ নিয়ে কুরবানি করলে তাতে কোনো আপত্তি নেই। (ফাতাওয়া বিন বায ১/৩৭)

আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ আল উসাইমীনকে জিজ্ঞেস করা হল:
দরিদ্র ব্যক্তির জন্য কি ঋণ করে কুরবানি করা শরিয়ত সম্মত?

উত্তরে তিনি বলেন:
ঈদুল আযহা আগমনের সময় কোনো দরিদ্র ব্যক্তির হাতে যদি টাকাপয়সা না থাকে কিন্তু আশা করে যে, সে তা সংগ্রহ করতে পারবে। যেমন: তার মাসিক বেতন আছে। অথবা ঈদের দিন তার হাতে কিছু নাই কিন্তু তার কোনো সাথী-বন্ধুর নিকট ঋণ নিতে পারবে। পরে বেতন পেলে পরিশোধ করে দিবে। তাহলে এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি যে, তুমি ঋণ নিয়ে কুরবানি করবে। আর পরে তা পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু যদি জলদি ঋণ পরিশোধ করার আশা না থাকে তাহলে আমরা বলি না যে, কুরবানি করার জন্য ঋণ নেয়া উত্তম। কেননা এ ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে তার মাথায় ঋণের চাপ পড়ে গেলো এবং সে মানুষের দয়ার মুখাপেক্ষী হয়ে গলো। আর সে জানে না যে, ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না। (মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ২৫/১১০)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿✿✿▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

Share This Post