কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ইসলামের দৃষ্টিকে হাসি-মস্করা ও কৌতুক করার বিধান

ইসলামে হাসি-মস্করা, আনন্দ ও বিনোদনকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত সে জন্য মিথ্যা বলা বৈধ করা হয় নি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে হাসি-মস্করা করতেন, কিন্তু মিথ্যা পরিহার করতেন। সাহাবীগণও হাসি-মস্করা করতেন, তবে মিথ্যা বর্জন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ القَوْمَ فَيَكْذِبُ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ»
‘‘যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!’’ (তিরমিযী, আস-সুনান ৪/৫৫৭; হাদীস নং ২৩১৫; আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৯৭; হাদীস নং ৪৯৯০)
❑ হাসির ছলেও মিথ্যা বলা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا، وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ لِمَنْ حَسَّنَ خُلُقَهُ»
‘‘যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বর্জন করে, মস্করা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।’’ (আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৫৩; হাদীস নং ৪৮০০)

❑ এখন প্রশ্ন হল, মিথ্যা কাকে বলে? বা কিভাবে বললে মিথ্যা হবে?

এর উত্তর হল, আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে এমন কথা বলেন বাস্তবে যা সে করে নি বা বলে নি তাহলে তা মিথ্যা হবে। কিন্তু কাউকে নির্দিষ্ট না করে উদাহরণ হিসেবে কথা বললে তা মিথ্যার অন্তর্ভূক্ত হবে না। যেমন এভাবে উদাহরণ পেশ করা যে, এক লোক এটা করেছে বা এটা বলেছে তার পরিণতিতে এটা ঘটেছে। এমন উদহারণ আল্লাহ কুরআনে দিয়েছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেন:وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا رَّجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ وَحَفَفْنَاهُمَا بِنَخْلٍ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًا “আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি।” (সূরা কাহাফ: ৩২)
আল্লাহ আরও বলেন:
ضَرَبَ اللَّـهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا
“আল্লাহ এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেনঃ একটি লোকের উপর পরস্পর বিরোধী কয়জন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন-তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান?” (সূরা যুমার: ২৯)
আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতদ্বয়ে উদাহরণ হিসেবে দু জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তা বাস্তবিক কোন ঘটনা নয়। (আল্লামা উসাইমীন রহ. এর বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত)
মোটকথা, দুটি শর্ত সাপেক্ষে হাসি-মস্করা করা জায়েয রয়েছে। যথা:
🔸১) নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নিয়ে বা তার দিকে ইঙ্গিত করে এমন কোন কথা বলা যাবে না যা সে বাস্তবে করে নি বা বলে নি। কেননা তা মিথ্যা। আর ইসলামে মিথ্যা বলা মারাত্মক বড় অন্যায়; হাসির ছলে হলেও। সেটা মুখে বলে হোক বা লিখুনির মাধ্যমে হোক বা অভিনয়ের মাধ্যমে হোক। সুতরাং তা দেখা বা পড়া কোনটাই ঠিক নয়।
🔸২) শুধু মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলা যাবে না। বরং বাস্তব সম্মত কথা বলে মাঝে-মধ্যে মানুষকে হাসানো বা মানুষের সাথে হাসি-মস্করা করা জায়েয রয়েছে। কেননা, এটি উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভূক্ত। তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। অতিরিক্ত হাসি-মস্করায় মানুষের ব্যক্তিত্ব কমে যায় এবং অন্তর মরে যায়।
আল্লাহু আলাম।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।।

Share This Post