কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আমাদের সমাজে ‘আজরাইল’ নামটি কিভাবে প্রচলিত হল

প্রশ্ন: আমাদের সমাজে ‘আজরাইল’ নামটি কিভাবে প্রচলিত হল?
উত্তর:
আজরাইল (عزرائيل/Azrael) শব্দটি আরবি বরং ইবরানি (হিব্রু/Hebrew) ভাষা থেকে এসেছে। জান কবজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে ইবরানি (হিব্রু) ভাষায় ‘আজরাইল/Azrael’ বলা হয়। বিভিন্ন ইসরাইলি বর্ণনায় এ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইসলামি লেখকদের মধ্যে ফখরুদ্দিন রাযী, ইমাম বাগাভী প্রমুখ কতিপয় তাফসির কারক তাদের তাফসির গ্রন্থে এ নামটি ব্যবহার করেছেন। এ কারণে এ নামটি আমাদের সমাজে বিভিন্ন বক্তা, ইসলামি লেখক এবং সর্ব সাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে।
কিন্তু কুরআন-হাদিসে এই নামটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। কুরআনে তাকে বলা হয়েছে মালাকুল মউত (মৃত্যু দূত)। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ
“বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘মালাকুল মওত’ তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।” [সূরা সজদা: ১১]
উল্লেখ্য যে, মালাকুল মউত বা মৃত্যু দূত একটি বৈশিষ্টগত নাম কিন্তু প্রকৃত নাম আল্লাহ ভালো জানেন।
– ইবনে কাসির রহ. বলেন,
وأما ملك الموت فليس بمصرح باسمه في القرآن، ولا في الأحاديث الصحاح، وقد جاء تسميته في بعض الآثار بعزرائيل
“মৃত্যু ফেরেশতার নাম কুরআন এবং সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে নাই। তবে কতিপয় আসার (পূর্বসূরিদের বক্তব্যে) তার ‘আজরাইল’ নামটি এসেছে।”
– শাইখ আলবানি বলেন,
“وأما تسميته بـ”عزرائيل” كما هو الشائع بين الناس فلا أصل له، وإنما هو من الإسرائيليات
“আর তার নাম ‘আজরাইল’-যেমনটি লোকসমাজে প্রচলিত-এর কোনও ভিত্তি নাই। বরং এটি ইসরাইলি বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।”
আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-
Share This Post